গভীর শ্রদ্ধায় একুশের প্রহর- ভাষা শহীদদের স্মরণে জাতির অঙ্গীকার
যথাযোগ্য মর্যাদা ও গভীর শ্রদ্ধায় সারাদেশে পালিত হচ্ছে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। একুশের প্রথম প্রহরেই ভাষা শহীদদের স্মরণে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারসহ দেশের সব শহীদ মিনারে মানুষের ঢল নামে। রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে শুরু হয় শ্রদ্ধা নিবেদনের আনুষ্ঠানিকতা।
প্রথমেই ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। নির্ধারিত সময়ের কিছু আগে তিনি শহীদ বেদীতে পৌঁছে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং নীরবে দাঁড়িয়ে শহীদদের স্মৃতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন। তাঁর পরপরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শহীদ মিনারে এসে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। তিনি কিছুক্ষণ নীরবতা পালন করেন এবং ভাষা আন্দোলনের শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। পরে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য ও উপদেষ্টাদের সঙ্গে নিয়ে আবারও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি।
দলীয় প্রধান হিসেবেও নেতাকর্মীদের সঙ্গে ভাষা শহীদদের প্রতি সম্মান জানান তারেক রহমান। এ সময় তাঁর পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তীতে তিন বাহিনী প্রধান পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষা শহীদদের স্মরণ করেন। এছাড়া প্রধান নির্বাচন কমিশনার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ বিভিন্ন সাংবিধানিক ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা একে একে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এবার প্রথমবারের মতো কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এসে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান জামায়াত আমির ও সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তাঁর সঙ্গে ১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। তারা শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া করেন এবং রাষ্ট্রীয় দায়িত্ববোধ থেকেই শহীদ মিনারে আগমনের কথা জানান। পরে আজিমপুর কবরস্থানে শহীদদের কবর জিয়ারত ও দোয়া-মোনাজাতে অংশ নেন তারা।
রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। খালি পায়ে, হাতে ফুল নিয়ে নানা বয়সী মানুষ ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আসেন। অনেকেই সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে এসে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ও মাতৃভাষার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পাশাপাশি ব্যক্তি উদ্যোগেও অসংখ্য মানুষ শহীদ মিনারে উপস্থিত হন। পুষ্পস্তবকের সঙ্গে ছিল বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষার আহ্বানসংবলিত প্ল্যাকার্ড। ভাষার সঠিক ব্যবহার ও চর্চা নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন আগতরা। মহান একুশের চেতনা ধারণ করে জাতি আবারও অঙ্গীকার করে—মাতৃভাষার সম্মান রক্ষায় থাকবে অবিচল।
Lorem ipsum dolor sit amet, consectetur adipiscing mollis dolor facilisis porttitor.
This is the rest of the content that will appear only on single post view.

